নিজস্ব প্রতিবেদক :
ট্রেনিং না থাকা, ভাষা না জানায় আমাদের কর্মীরা বিদেশে পিছিয়ে পড়ছে’টিকটকে-ফেসবুকে বিদেশের চাকচিক্য দেখে অনেকেই নিয়ম না মেনে বিদেশ যায়। কিন্তু ট্রেনিং না থাকায় বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়েন। আমাদের মনে রাখতে হবে, ট্রেনিং না নিলে ভালো বেতনের চাকরি ও অনেক ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না।”-বলে মন্তব্য করেছেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।
সোমবার যশোরের শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের হল রুমে আয়োজিত এক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় বিদেশ-ফেরত নারী ও শিশু অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
যশোরে ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) অধ্যক্ষ প্রকৌশলী গাজী ইকফাত মাহমুদ। তিনি বলেন, “ভাষা না জেনে এবং দালালদের খপ্পরে পড়ে বিদেশ যাওয়া আত্মঘাতী। আমাদের নারীরা ভাষা না জেনে ও ট্রেনিং না নিয়ে বিদেশে যাওয়ায় নিজেদের প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক রাহেনুর ইসলাম বলেন, “২০২৩ সালে প্রায় তিন হাজার নারী কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিদেশে গেছেন। ভাষা ও কাজের দক্ষতা না থাকায় তারা বিপদে পড়েছেন। নারীদের বৈধ পথে বিদেশে যাওয়া এবং নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশে ফেরত এলে তিনি আয়ের খাতে টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন।”
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর রবিউল ইসলাম রুবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সিনিয়র অফিসার তানজিন সুলতানা সেঁজুতি। কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিদেশ-ফেরত অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম দেশের অভিবাসনপ্রবণ জেলাগুলোতে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, পুনরেকত্রীকরণ এবং বিদেশ-ফেরতদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
