এনামুল হাসান, কেশবপুর(যশোর):
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমে এখন গ্রামবাংলার দৃশ্যপট বদলে গেছে। ভোর হলেই রাস্তার মোড়ে মোড়ে কাঁচি, বাখ-দড়ি হাতে অপেক্ষা করছেন কৃষি শ্রমিকরা কাজের আশায়। আর কৃষকেরা খুঁজছেন “সহনীয় দামে” শ্রমিক। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা- এবার শ্রমের বাজার যেন নিজেই হয়ে উঠেছে নতুন ধানক্ষেত, যেখানে দাম উঠছে আকাশ ছুঁয়ে।
এ মৌসুমে একজন কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত। কৃষকদের ভাষায়, এই টাকা এখন অনেক ক্ষেত্রেই দেড় মণ ধানের সমান।
উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নের নেহালপুর গ্রামের কৃষকরা বলছেন, এক বিঘা জমির ধান কাটতে এখন আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচ হচ্ছে। শ্রমিক না পেলে ধান মাঠেই পড়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ধান বিক্রি করছি কম দামে, কিন্তু কাটতে হচ্ছে বেশি দামে। লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না। এভাবে চললে কৃষি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবি, মৌসুমের কারণে কাজের চাপ বেড়েছে, তাই মজুরিও বেড়েছে। অনেক শ্রমিক বলছেন, সারা বছর কাজ না থাকায় এই সময়টুকুই তাদের প্রধান আয়ের উৎস। তাদের মতে, কাজ বেশি, সময় কম-তাই মজুরিও বেশি।
কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এবার উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রমিক সংকট ও সময়মতো ধান কাটার চাপই মূলত মজুরি বৃদ্ধির কারণ।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট ও বাজারের ভারসাম্যহীনতা কৃষকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু ধানের দাম সেই অনুপাতে বাড়ছে না। তারা সতর্ক করে বলছেন, এই ধারা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কৃষিতে আগ্রহ কমে যেতে পারে।
কেশবপুরের ধানক্ষেতে এখন শুধু ফসল নয়, চলছে “শ্রমের অর্থনীতি”। একদিকে কৃষকের হতাশা, অন্যদিকে শ্রমিকের সুযোগ-এই দুই বাস্তবতার মাঝেই গড়ে উঠছে গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন চিত্র।
