, , ,

যশোর শিশু একাডেমি: যেখানে প্রতিযোগিতায় অংশ না নিয়েও প্রথম হওয়া যায়!

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী), শিশু অধিকার দিবস ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে যশোর জেলা শিশু একাডেমি আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ফলাফল নিয়ে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিযোগিতায় অংশ না নিয়েও আইয়ান রেজা নামে এক শিশুকে চিত্রাঙ্কন বিভাগে প্রথম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রতিযোগী ও অভিভাবক।

অভিযোগকারীদের দাবি, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় আইয়ান রেজাকে তারা অংশ নিতে দেখেননি। অথচ প্রকাশিত ফলাফলে তাকে প্রথম ঘোষণা করা হয়েছে। একই শিশুকে দেশাত্মবোধক সংগীত ও আবৃত্তিÑএই দুই বিভাগেও প্রথম স্থান দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠেছে।
কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, আইয়ান রেজা স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার ছেলে হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে তাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিভাবকদের দাবি, প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৭ অক্টোবরের প্রতিযোগিতার উপস্থিতি ও প্রতিযোগীদের তালিকা, বিচারকদের মূল্যায়নপত্র, নম্বরপত্র এবং ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়া প্রকাশ করা হোক। অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিতর্কিত ফলাফল বাতিল করে পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, ফলাফল প্রকাশের পর যশোর জেলা শিশু একাডেমির ফেসবুক পেজে এ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা হলেও পরে মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আইয়ান রেজাকে অন্যদের তুলনায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। তাদের দাবি, এসব অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যশোর জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস। তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী সব হয়েছে। কোনো অনিয়ম করা হয়নি।”
অভিভাবকদের বক্তব্য, শিশুদের প্রতিযোগিতায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। এতে শিশুদের মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার প্রতি আস্থা বজায় থাকবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ