সাদনান রহমান সিয়াম,সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের শাখরা-কোমরপুরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী গুরুত্বপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি এখন এলাকাবাসীর জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ব্রিজটির পাটাতনের ভেঙে যাওয়া লোহার প্লেটগুলো জনমানুষের জন্য মারাত্মক ঝুকির সৃষ্টি করেছে।
২০২০ সালের পর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই এলাকায় অন্য কোন কাজে এসে ব্রিজটি পারাপারের সময় ঝুকির বিষয়টি স্বচক্ষে দেখে তাৎক্ষণিক সেটা জরুরিভিত্তিতে মেরামতের আশ্বাস দেন। এধরনের অসংখ্য আশ্বাস মুখে মুখেই থেকে গেছে, কিন্তু ব্রিজ সংস্কারের কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
এলাকাবাসীরা জানায়, নব্বই এর দশকের শুরুর দিকে সাতক্ষীরার লাবন্যবতী নদীর কুমড়োর খালের উপর বেইলি ব্রিজটি নির্মিত হয়। ব্রিজটি নির্মাণের ফলে ভোমরা স্থল বন্দরসহ পাশ্ববর্তী এলাকায় কর্মরত দেবহাটা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হন। এছাড়া শাখরা ও কোমরপুরের আশে পাশের অসংখ্য গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়।
এলাকাবাসী আরো জানায় ব্রিজটি এখন ভোমরা স্থলবন্দর হতে কালিগঞ্জ বাইপাস সড়ক হিসাবে ব্যবহার হয়। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় এবং নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ব্রিজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে যোগ হয়েছে চরম ভোগান্তি। ৫০টি লোহার পাতের প্রায় ৩০টি নষ্ট হয়ে গেছে। লোহার পাত ভেঙে নষ্ট হওয়ায় যানবাহনের চাকা আটকে ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই আছে প্রতিনিয়ত। মানুষের পা আটকে অঙ্গহানীর আশংঙ্কাও তৈরী হয়েছে।
ব্রিজ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা জানান, এই ব্রিজটি দিয়ে শাঁখরা বাজার, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদ, শাঁখরা-কোমরপুর এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শাঁখরা-কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভোমরা ইউনিয়ন দাখিল মাদ্রাসা, পোস্ট অফিসসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে দৈনন্দিন চলাচল করতে হয়। এছাড়া ভোমরাস্থল বন্দরের বিভিন্ন পণ্য আনা নেওয়া করা হয় ব্রিজটি দিয়ে। বর্তমানে ব্রিজটি নড়বড়ে ও একাধিক স্থানে ভেঙে যাওয়ায় ব্রিজ দিয়ে সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
২০২০ সালের পর থেকেই ব্রিজটি সংস্কারে একাধিক জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু মৌখিক আশ্বাস আশ্বাসই থেকে গেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এলাকাবাসীরা দ্রুত ব্রিজটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
