, , ,

সাতক্ষীরা মাদ্রাসার সুপার ও জামাত নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে কামড়ানোর অভিযোগকে নিয়ে বিতর্ক

আরো খবর

সাদনান রহমান সিয়াম,সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের গাভা দাখিল মাদ্রাসায় সুপারিনটেনডেন্ট ও জামাত নেতা মাওলানা আজাদুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ, শিক্ষার্থী মারিয়া খাতুনকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং কয়েকজন শিক্ষক ও সাবেক সভাপতির নাম-ছবিসংবলিত আপত্তিকর কাগজ সাঁটানোর ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা আজাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে কামড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথোপকথনের ভিডিওতে শিক্ষার্থী মারিয়া খাতুনের মুখের দাগ, পুঁইশাকের পাতা ঘষে দেওয়ার প্রসঙ্গ এবং কে তাঁকে কামড় দেওয়ার কথা বলতে বলেছিল—এমন বিষয়ে প্রশ্ন করতে শোনা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে ‘লালটু দাদা’ ও ‘হক হুজুর’ নামও উচ্চারিত হয়।
তবে ভিডিওতে উঠে আসা কথোপকথনের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ভিডিওর বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা বা কোনো ব্যক্তির দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

এদিকে, মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা আজাদুল ইসলামকে এক মাসের জন্য সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে বলেও আলোচনা চলছে। তবে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে কি না কিংবা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, গাভা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও সাবেক সভাপতির নাম-ছবিসংবলিত আপত্তিকর কাগজ সাঁটানো হয়েছে। কাগজটির শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘গাভা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক নামের মুনাফিক যারা’। এতে কয়েকজনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। তবে কাগজটি কারা তৈরি করেছে, কারা সাঁটিয়েছে এবং এতে উল্লেখ করা বক্তব্যের ভিত্তি কী, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শিক্ষার্থীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ, সুপারিনটেনডেন্টকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার প্রস্তাব এবং নাম-ছবিসংবলিত কাগজ সাঁটানোর ঘটনাকে একই সূত্রে যুক্ত করার মতো নিশ্চিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।

গাভা দাখিল মাদ্রাসার এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, অভিযোগের নথি এবং এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নাম জড়িয়ে পড়লে নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতেই এ ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ