, , ,

তীব্র তাপদাহে পুড়ছে সাতক্ষীরা, জনজীবনে স্থবিরতা

আরো খবর

সাদনান রহমান সিয়াম, সাতক্ষীরা :
​ভোর হতেই সূর্যের উত্তাপ জানান দিচ্ছে দিনটি কতটা অসহনীয় হতে চলেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার আকাশ যেন আগুনের গোলার মতো জ্বলছে।

গত তিন দিন ধরে তীব্র দাবদাহে দিশেহারা হয়ে পড়েছে জেলাটির জনজীবন। গাছপালা ঝিমিয়ে পড়ছে, মাঠঘাট ফেটে চৌচির, আর মানুষ ও প্রাণিকুল হাঁসফাঁস করছে একটু স্বস্তির খোঁজে। একদিকে অসহনীয় গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দোসর—সব মিলিয়ে জনজীবন এখন এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে।

​আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিন ধরে সাতক্ষীরার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি। শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। শনিবার আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকলেও তাপমাত্রার পারদ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করছে। এর ওপর বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গরমের তীব্রতা অনুভব হচ্ছে আরও বেশি। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যারা বের হতে বাধ্য হচ্ছেন, তারা তীব্র রোদ আর ধুলোবালি থেকে বাঁচতে ছাতা, হ্যাট বা স্কার্ফ ব্যবহার করছেন।

এছাড়া তীব্র দাবদাহের সাথে সাথে রয়েছে বিদ্যুতের বিভ্রাট। ঘন্টায় ঘন্টায় অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে।গ্রামগঞ্জ গুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষজন বিদ্যুৎ বিভ্রাট অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান সহকারী জুলফিকার আলি রিপন বলেন, শুক্রবার বিকাল ৩টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার দুপুর আড়াইটায় তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রির একটু বেশি। এ অবস্থা আরও দুই-একদিন থাকতে পারে।

এদিকে ​তীব্র গরমের সরাসরি প্রভাব পড়েছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে হিটস্ট্রোকের ভয়ে বা গরমে অসুস্থ হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবার খাওয়ার জন্য।

​সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, গত তিন দিনে প্রচুর সংখ্যক মানুষ জ্বর, মাথাব্যথা, পানিশূন্যতা এবং হিট-ক্র্যাম্পের সমস্যা নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “তীব্র দাবদাহের সময় বাইরের কাজ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো। যদি বাইরে বের হতেই হয়, তবে ছাতা ব্যবহার করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করাও শরীরের জন্য এখন খুবই প্রয়োজন।”

 

​দাবদাহের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি খাত। সাতক্ষীরার মাঠগুলোতে এখন ধান পাকার সময়। দিনের বেলা শ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না। মাঠের মাটি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, যার ফলে সেচ ব্যবস্থা সচল রাখা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমের মুকুল ও গুটির ওপরও এই তাপপ্রবাহের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা

​প্রকৃতি যেন বৃষ্টির জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। খাল-বিল, পুকুর ও নদীগুলোর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় চারপাশের গাছপালা মলিন হয়ে গেছে। সবুজের ওপর ধূসর আস্তরণ জমেছে যেন। তবে আশার কথা হলো, আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৬ এপ্রিল থেকে কিছুটা স্বস্তির বাতাস বইতে পারে। সেদিন বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই দীর্ঘ দাবদাহের অবসান ঘটাতে পারে।

​তীব্র গরমে শহরের কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি ও শরবত বিতরণ করতে দেখা গেছে। অসহনীয় এই পরিস্থিতিতে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পথচারীদের। তবুও, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে নাগরিক জনজীবন এখন এক ধরনের ক্লান্তিতে ডুবে আছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ