এনামুল হাসান:‘ভূতের বাড়ি তালাবদ্ধ জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র’ শিরোনামে এনটিভি ওদৈনিক প্রজন্ম একাত্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অবহেলা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর লতাপাতায় ঢেকে থাকা ঐতিহ্যবাহী কেশবপুর পাবলিক লাইব্রেরিটি সংস্কার ও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
সংবাদ প্রকাশের পর পরই ২ জুন (মঙ্গলবার) কেশবপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে লাইব্রেরি ভবনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যে লাইব্রেরি ভবনটি একসময় ভূতুড়ে বাড়ির রূপ নিয়েছিল, মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেখানে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের তৎপরতায় ভবনের দেয়াল, দরজা আর জানালায় বাসা বাঁধা বছরের পর বছর জমে থাকা আগাছা ও লতাপাতা কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে ধুলোবালির আস্তরণ পড়া ভেতরের আসবাবপত্র এবং চারপাশ পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন করা হয়।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফজল মোঃ ইনামুল হক জানান পৌর প্রশাসকের কড়া নির্দেশনায় মঙ্গলবার সকালে কেশবপুরের এই ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইব্রেরিটি সাধারণ মানুষ ও পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত করার সব রকম প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
লাইব্রেরিটি পরিষ্কার করার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী ও সাহিত্যিকদের মাঝে দীর্ঘদিনের হতাশা কেটে আশার আলো দেখা দিয়েছে। তবে তারা শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্যেই এই উদ্যোগকে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত পাঠক উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় এক প্রবীণ সাহিত্যিক ক্ষোভ ও আশা প্রকাশ করে বলেন একটি অঞ্চলের প্রাণের স্পন্দন হলো তার লাইব্রেরি। দীর্ঘ বছর ধরে এটি বন্ধ থাকায় আমাদের নতুন প্রজন্ম বইবিমুখ হয়ে পড়ছিল। প্রজন্ম একাত্তর ও এনটিভির সংবাদ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে এবং প্রশাসনের এই পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।
তবে আমাদের দাবি, দ্রুত একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করে লাইব্রেরিটি নিয়মিত সচল রাখা হোক।”
আরেকজন তরুণ সংস্কৃতিকর্মী শফিকুল ইসলাম সুইট জানান ভবন পরিষ্কার হওয়াটা কেবল প্রথম ধাপ। আমরা চাই এখানে নতুন বইয়ের সুব্যবস্থা করা হোক, বসার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। প্রশাসন যদি আন্তরিক হয়, তবে কেশবপুরের সাহিত্য ও জ্ঞানচর্চার এই ঐতিহ্য আবার প্রাণ ফিরে পাবে।”
১৯৮৩ সালে এলাকার বিশিষ্ট সাহিত্যিক বিমল দে, জহুরুল হক, এরশাদ আলী, মনিমোহন ধর ও আব্দুল করিমের যৌথ উদ্যোগে এবং ব্র্যাকের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছিল এই লাইব্রেরি। যশোর জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই ভবনটি একসময় স্থানীয় শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী এবং জ্ঞানপিপাসুদের প্রধান মিলনমেলা ছিল।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের পর এখানে আর কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন হয়নি। ২০০৫ সালে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর প্রশাসনিক জোড়াতালিতে চলতে চলতে সর্বশেষ ২০১৭ সালে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
