, , ,

ঝিকরগাছায় বালিকা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় যৌন কেলেংকারীসহ দুর্নীীত তদন্তে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের রওজাতুল জান্নাত বালিকা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এতিম দুই জমজ শিশুর যৌন নিপীড়ন পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও অর্থ সংগ্রহ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) কমিটির সদস্যরা মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।রওজাতুল জান্নাত বালিকা হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালকের যৌন কেলেংকারী এবং মাদ্রসার অব্যবস্থপনা নিয়ে দৈনিক প্রজন্ম একাত্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় ধরাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে। ঘটনা ধামাচাপ দিতে কয়েকজন মাওলানা এবং কতিপয় অভিভাবক নিয়ে দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান । কিন্ত কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসছে সাপ। এরই মধ্যে বেরিয়ে এসেছে মাদ্রাসা পরিচালনায় ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২৫ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বপ্রণোদিত হয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়ালীয়ার রহমান। অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম।

মাদ্রাসাটি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ সংগ্রহ, জমি ও অবকাঠামোসংক্রান্ত বিষয় এবং পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এসব অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমির মালিকানা, অর্থের ব্যবহার, পরিচালনা কমিটির ভূমিকা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শিক্ষা, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

বুধবারের পরিদর্শনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেন। তবে পরিদর্শনকালে কী কী তথ্য পাওয়া গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে কমিটির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ কীÑতা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটিকে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা পড়লে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অভিযোগগুলোর সত্যতা, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট হতে পারে। এরপর তদন্তের ফলাফল ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ