সমীর রায়, আশাশুনি :
আশাশুনিতে বায়ার কোম্পানির বালাইনাশক ব্যবহার করে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন এক তরমুজ চাষী। চরম ক্ষতিগ্রস্ত দিশেহারা চাষী বড়দল ইউনিয়নের নড়েরাবাদ গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র ম-লের ছেলে পবিত্র কুমার মন্ডল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ক্ষতিপূরণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
জানান, চলতি বছর চাম্পাখালি মৌজায় ২০ বিঘা জমি বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা হারি নিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। গাছে ছোট-বড় ফল ধরা শুরু হলে পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ উপজেলার বিশ্বরুপ চন্দ্র ঘোষ (০১৯৯২ ৪৯২৫১৯) নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বায়ার ক্রপসায়েন্স লিঃ এর পরামর্শ দাতা পরিচয় দিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করে।
গত ১ মার্চ বিকালে বিশ্বরুপ নিজে আমার ক্ষেতে এসে বলে আমি বায়ার কোম্পানির হেড অফিস যশোর থেকে এসেছি। আমি এ এলাকায় বিভিন্ন লোকজনের তরমুজ ক্ষেতের পরিচর্যা করে থাকি। আমার কাছ থেকে ১২ দিন চিকিৎসা নিলে আপনার তরমুজ গাছ সম্পুর্ন সুস্থ্য হবে।
বিশ্ব রুপের পরামর্শে ৭ এপ্রিল ৩টি প্রেসকিপসন অনুযায়ী বালাইনাশক ঔষধ কিনে আমি ক্ষেতের সমস্ত গাছে প্রয়োগ করি। ৬/৭ দিন পরে তরমুজের অবস্থা খুবই খারাপ হওয়ায় আমি বিশ্ব রুপের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অন্য কোন কোম্পানির ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে না। যেটা দিয়েছি আরও ১২ দিন প্রয়োগ করেন। কিন্তু এরপর আমার অধিকাংশ তরমুজ গাছ মরিয়া যায়। এতে আমি প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমি এক প্রতিবন্ধী সন্তানের পিতা, এনজিও সহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এ চাষে নেমে কৃষি অফিসের পরামর্শ না নিয়ে বিশ্বরূপের পরামর্শে আমি পথে বসেছি। কৃষি অফিসের কথা শুনলে আমার ৮০ লক্ষ টাকার ব্যবসা হতো।
প্রতারক বিশ্বরূপের কাছে বারবার যোগাযোগ করলে তিনি আমরা ব্যবস্থা করে দেব বলে তাল বাহানা করছেন। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার কোন উপায় নেই। বায়ার কোম্পানির ভুল পরামর্শ নিয়ে আমার যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে কৃষি অফিস সহ উপজেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামা নন্দ কুন্ডু জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
