, , ,

লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত

আরো খবর

সাদনান রহমান সিয়াম/সমীর রায় সাতক্ষীরা:
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই হামলায় একজন সিরীয় নাগরিকও প্রাণ হারান।

মৃতরা হলেন শফিকুল ইসলাম* (৩৫), পিতা: আফসার আলী, মাতা: আজেয়া খাতুন, গ্রাম: ভালুকা চাঁদপুর, সাতক্ষীরা সদর।
মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ* (৩২), পিতা: আব্দুল কাদের, মাতা: নুরুন্নাহার খাতুন, গ্রাম: কাদাকাটি, আশাশুনি।

লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম _লরিয়েন্ট টুডে_ জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নাবাতিহ জেলার জেবদিন এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে এই হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলার সময় তিনজনই বাসায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে নিহতদের মরদেহ নাবাতিয়ের নাবিহ বেররী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দূতাবাস নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ভালুকা চাঁদপুর মডেল হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আল কালাম আবু ওয়াহিদ বাবলু মাস্টার নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শফিকুল 8 বছর ধরে এবং নাহিদ 5 বছর ধরে লেবাননে কর্মরত ছিলেন।

জেবদিনে সোমবার এটি ছিল ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বিতীয় দফা হামলা। এর আগে একই এলাকায় রুটি বহনকারী একটি ভ্যানে ড্রোন হামলায় স্থানীয় আরও দুজন নিহত হন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ ইসরায়েল পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত 2,869 জন নিহত এবং 8,730 জন আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে হিজবুল্লাহর উল্লেখ না থাকায় দক্ষিণ লেবাননে হামলা থামেনি।

চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত অবস্থায় এ নিয়ে 10 জন বাংলাদেশি প্রাণ হারালেন। এর আগে গত ৮ এপ্রিল বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশি নারী কর্মী দিপালী বেগম।

 

এদিকে নাহিদের আকস্মিক এই মৃত্যুর খবর পেয়ে তার গ্রামের বাড়িতে হাজির হন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

 

সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের ইউএনও বলেন, আমরা নাহিদের মৃতদেহ যাতে তার পরিবারের কাছে পৌঁছায় সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুততার সহিত যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।
‎নাহিদের ঋণ দেনা সম্পর্কে ইউএনও বলেন, সরকারি ভাবে যতটা সহযোগিতা করা যায় আমরা চেষ্টা করব।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ