কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরের চিংড়া ধর্মপুর দারুস্ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় ঢুকে অধ্যক্ষকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর জামায়াত নেতা ও স্থানীয় লোকজনদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে চিংড়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
জানা গেছে, উপজেলার চিংড়া ধর্মপুর দারুস্ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গতকাল রোববার সকালে স্থানীয় জামায়াত নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাহাজ উদ্দীন ও হামিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী মাদ্রাসায় প্রবেশ করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামকে মারধর করে। এ ঘটনার পর জামায়াত নেতা ও স্থানীয় লোকজনদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে চিংড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই শামীম হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ঘটনার বিচার চেয়ে ওই দিন অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করার প্রস্তুতি চলছিল।
জামায়াত নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ রাহাজ উদ্দীন বলেন, মারধর করার কোন ঘটনা ঘটেনি। গোপনে কমিটি গঠনের বিষয়ে অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।
চিংড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই শামীম হোসেন বলেন, চিংড়া ধর্মপুর দারুস্ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষকে মারধর করার ঘটনায় ঘটে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
এদিকে সংবাদ সংগ্রহকালে এনটিভির প্রতিনিধির ওপর হামলা, ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিংড়া ধর্মপুর দারুস ছুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সিরাজুল ইসলাম -এর বিরুদ্ধে অবৈধ কমিটি গঠন, জমি ছেড়ে দিয়ে বাউন্ডারি নির্মাণ ও অতীত দুর্নীতির বিষয়ে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক এনামুল হাসান।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় উপজেলা বিএনপির সদস্য রেজাউল মোড়ল এবং ২নং সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম খানের ভাইপো ও যুবনেতা ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক সাংবাদিক এনামুল হাসানের ওপর চড়াও হয়। তারা তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেশবপুর ও মনিরামপুরের কর্মরত সাংবাদিক সমাজ। স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং হামলাকারী বিএনপি নেতা রেজাউল মোড়ল ও যুবনেতা ইকবাল হোসেনসহ জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
