কেশবপুর প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুর পৌর শহরের সাহাপাড়া এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। নিজ মেয়ের হাতে খুন হয়েছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা গৌরী রানী। গত সোমবার গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গৌরী রানী ওই এলাকার মৃত কালীপদ অধিকারীর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে মৃত কালীপদ অধিকারীর বাড়িতে চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যায়। প্রতিবেশীরা নিহতের মেয়ে দীপ্তি অধিকারী (৫৫) বিবস্ত্র অবস্থায় ছাদের ওপর ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই বঁটি আছাড় দিয়ে কপাল ও মাথায় আঘাত করে মাকে হত্যা করেন তিনি।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির ভেতর গৌরী রানীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে অভিযুক্ত দীপ্তি রানীকে বাথরুমের ভেতর থেকে বিবস্ত্র ও অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গৌরী রানীর স্বামী তার জন্য একটি দোতলা বাড়ি এবং প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের তিন শতক জমি রেখে গিয়েছিলেন। তবে তিন ছেলে ও এক মেয়ের জননী হয়েও শেষ বয়সে চরম অবহেলায় দিন কাটত এই বৃদ্ধার। তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলে চাকরির সুবাদে বাইরে থাকেন এবং ছোট ছেলে শোপন পাশে আলাদা সংসার নিয়ে থাকলেও মায়ের দেখাশোনা করতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দীপ্তি রানী একজন শিক্ষিত নারী ছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং মায়ের সাথেই থাকতেন। ঘটনার রাতে বাড়িতে মা ও মেয়ে ছাড়া আর কেউ ছিল না।
সম্পদ থাকলেও দেখার কেউ ছিল না মা-টার। একদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের ভার, অন্যদিকে ছেলেদের অবহেলা—সব মিলিয়ে এক করুণ পরিণতি দেখল কেশবপুর।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই কোনো উস্কানি ছাড়াই দীপ্তি রানী তার মায়ের ওপর আক্রমণ চালিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। তবে পূর্ব থেকেই
সন্তানদের হাতে পিতা- মাতা অবহেলিত বলে জানা গিয়েছে।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সঞ্জয় দাস বলেন আমরা খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করি।
প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের কপাল ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি বঁটি হাছাড় উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।
তিনি আরও যোগ করেন, “অভিযুক্ত দীপ্তি রানীকে আমরা হেফাজতে নিয়েছি। তবে তাকে আটকের সময় আমরা সম্পূর্ণ অপ্রকৃতিস্থ ও বিবস্ত্র অবস্থায় পাই। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলা নং ১৪
