, , ,

কেশবপুরে ১০২টি পূজামণ্ডপের ৬৩০ আনসার-ভিডিপি মোতায়েন

আরো খবর

কেশবপুর প্রতিনিধি:

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর অংশ হিসেবে যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১০২টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তায় ৬৩০ জন প্রশিক্ষিত আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা মোতায়েন করা হয়েছে।

১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই নিরাপত্তা কার্যক্রম আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। মোতায়েনকৃত সদস্যদের মধ্যে ৪২৬ জন পুরুষ এবং ২০৪ জন নারী সদস্য রয়েছেন।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতে সহযোগিতা করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এই মোতায়েন কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য। দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল সদস্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বাহিনীর নিজস্ব ‘AVMIS’ সফটওয়্যারে নিবন্ধিত। দায়িত্ব পালনকালে তাঁদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২ জন করে ‘এন্ড ইউজার’ (End User) সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। পূজা চলাকালীন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাঁরা বিস্তারিত বিবরণ, ছবি ও ভিডিওসহ ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদন পাঠাবেন।

উপজেলার সার্বিক নিরাপত্তা সমন্বয়ের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ে ২টি বিশেষ স্ট্রাইকিং টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা সার্বক্ষণিক কেশবপুর উপজেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবে।

নিরাপত্তা জোরদার করতে ১৫ অক্টোবর কেশবপুরে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের এক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, অফিসার্স ইনচার্জ, উপজেলা প্রশিক্ষিকা এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ে নারী ও শিশুদের বিশেষ নিরাপত্তা, সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্তকরণ, গুজব রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় করে কাজ করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, যশোর জেলার পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। একই সাথে গুজবে কান না দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং যেকোনো প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মুহাম্মাদ মিয়াজান আলী বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেশবপুরের ১০২টি পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা ৬৩০ জন প্রশিক্ষিত সদস্য মোতায়েন করেছি। প্রথাগত নিরাপত্তার পাশাপাশি এবার ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিটি মণ্ডপে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা কন্ট্রোল রুম ও জেলা স্ট্রাইকিং টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। আশা করছি সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।”

আরো পড়ুন

সর্বশেষ