বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :কোরবানির ঈদ সামনে রেখে টু-টাং শব্দে মুখরিত যশোর বাগের হাটের কামার পল্লী। আর মাত্র ছয়দিনপর ঈদ। এই ঈদকে সামনে রেখে আগুনে লােহা লক্কর গলিযে নিপুন হাতে গড়ছেন কোপা. বটি ছুরি,দা চাপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র। অনেকে দা ছুরিতে করিয়ে নিচ্ছেন ধার। টু-টাং শব্দে মুখরিত কামার বাড়ী এলাকা। তবে এবার বিগত বছরের তুলনায় ক্রেতা কম। ঈদের আগেই বেশি বিক্রির হবে বলে আশা করছেন তারা।
যশোরের শার্শা বেনাপােলের কামার শিল্পের কারিগরদের কুরবানির ঈদ উপলক্ষে গত এক সপ্তাহ ধরে ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। দেশীয় অস্ত্র তৈরিতে রাত দিন পরিশ্রম করছেন তারা।
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান,
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে কামারপট্টি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টু-টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠছে কামারদের কর্মশালা। দা, ছুরি, চাপাতিসহ কোরবানির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন লোহার সরঞ্জাম তৈরি ও ধারালো করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা।
তবে ব্যস্ততা থাকলেও নতুন পণ্যের বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায় কিছুটা হতাশ ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, অধিকাংশ মানুষ নতুন দা, ছুরি না কিনে পুরাতন সরঞ্জামই ধারালো করতে নিয়ে আসছেন। ফলে কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখছেন না তারা।

কামাররা বলছেন, বর্তমানে লোহার কাঁচামালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দা, ছুরি ও চাপাতি তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন পণ্যের দামও বেড়েছে। আর সেই কারণেই অনেক ক্রেতা নতুন পণ্য কেনার পরিবর্তে পুরাতন জিনিস মেরামত ও ধারালো করাতেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, কোরবানির সময় ভালো মানের ধারালো দা ও ছুরি ছাড়া কাজ করা কঠিন। তাই আগেভাগেই কামারপট্টিতে এসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি ও শান দিয়ে নিচ্ছেন তারা। টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারপট্টি যেন জানান দিচ্ছে— কোরবানির ঈদ আর বেশি দূরে নয়।
স্থানীয় কামার ব্যবসায়ীদের আশা, ঈদের শেষ মুহূর্তে বিক্রি কিছুটা বাড়তে পারে। তবুও বাড়তি কাঁচামালের দাম ও কম বিক্রির কারণে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
