, , ,

খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্ট, সাতক্ষীরায় কৃষকদের বিক্ষোভ

আরো খবর

সাতক্ষীরা ব্যুরো:

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ধানখালী এলাকায় খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। রবিবার সকালে ধানখালি খননকৃত খাল ও কৃষিজমিতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে খাল খনন বন্ধ, প্রকল্পের নকশা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্কৃত ষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কৃষক নেতা জমির আলী বলেন, উপকূলের লবণাক্ত অঞ্চলে চাষাবাদ করেই কোনো রকমে পরিবার চালাতে হয়। অথচ খাল খননের নামে তাদের শেষ সম্বল আবাদি জমি কেটে নষ্ট করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ১০ ফুটের খাল কাটতে গিয়ে নষ্ট করা হচ্ছে ৪০ ফুটের কৃষি জমি।

ভূপতি ঘোষ বলেন, কাজ শুরুর আগে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। মুল ঠিকাদার কোনদিন সংশ্লিষ্ট এলাকাতে আসেনইনি। যারা এসেছেন তাদের কাছে এলাকার মানুষ বারবার নকশা ও স্টিমেট দেখতে চাইলেও সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে রাজি হননি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

মজিদ সরদার অভিযোগ করে বলেন, গরিব কৃষকদের জমির ওপর যত অনাচার চালানো হচ্ছে, অথচ প্রভাবশালীদের জমি অক্ষত রাখা হয়েছে। তিনি এই বৈষম্যের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

রবিউল পাড় বলেন, বারবার ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ত পানির আঘাতে এলাকার অধিকাংশ জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ধানখালীর কিছু উর্বর জমিই ছিল কৃষকদের ভরসা। সেই জমিও যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কৃষকরা চরম সংকটে পড়বেন।

সেলিনা পারভিন বলেন, যে ক্ষতি কৃষকদের করা হয়েছে তার ক্ষতিপুরণ অবশ্যই দিতে হবে।

এনামুল গায়েন বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে খাল কাটার কারণে ফসলি জমির পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দ্রুত কাজ বন্ধ করে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত পরিবেশকর্মী মাধব দত্ত বলেন, খাল খননের নামে কৃষিজমি ধ্বংসের এই অনিয়ম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রকল্পের মূল নকশা, স্টিমেট ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেন।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনকের সাথে ফোনে যোগায়োগ করা হলে তিনি বলেন, এব্যাপারে তিনি অবগত নন। বিএডিসির সাথে কথা বলতে বলেন তিনি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ