নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের মনিরামপুরে ইটভাটা মালিক মোঃ কামরুল ইসলামের ওপর এক নৃশংস সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে খেদাপাড়া ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম যখন মনিরামপুর থানার শ্যামকুড় গ্রামস্থ মাঠপাড়ায় নিজ ইটভাটায় কাজ করছিলেন, তখন এই হামলা চালানো হয়।
হামলার পর মনিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করেছে। তবে ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও ১ নম্বর আসামিসহ মূল অপরাধীরা এখনো অধরা থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কামরুল ইসলামের আপন ভাগ্নে এবং মামলার প্রধান আসামি মোঃ মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক ভাটায় অনধিকার প্রবেশ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও জিআই পাইপ নিয়ে তারা কামরুল ইসলামের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রধান আসামি মাসুম বিল্লাহ হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে কামরুল ইসলামের মাথায় কোপ মারার চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাম পায়ের হাঁটুতে লাগে এবং হাড় ভেঙে যায়। এরপর আসামিরা তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক কোপাতে থাকে। এতে তার বাম পায়ের তালু এবং ডান পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হয়। এ সময় ৩ নম্বর আসামি তরিকুল ইসলাম তার ঘাড় লক্ষ্য করে রামদা দিয়ে কোপ দিলে সেখানে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। কামরুল ইসলাম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।
পরে ভাটার শ্রমিক ও স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল যশোরে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে যশোর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর কামরুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ নাসরিন সুলতানা বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— প্রধান আসামি মোঃ মাসুম বিল্লাহ (৩২), মোঃ আসিফ হোসেন (২৩), মোঃ তরিকুল ইসলাম (২০), মোঃ তৈয়েবুর ইসলাম (২৫), মোঃ শহিদুল ইসলাম (২৪) এবং মোঃ সোহান হোসেন (২২)।
এজাহার দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার ৩ ও ৪ নম্বর আসামিসহ আরিফ ও মাছুম নামের মোট চারজনকে আটক করে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার সাক্ষী মোঃ আব্দুল খালেক, মোঃ মতিয়ার রহমান, মোঃ আইয়ুব আলী এবং মোঃ মোজাফফার জানান, দিনদুপুরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে এভাবে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানোয় পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মামলার বাদী মোছাঃ নাসরিন সুলতানা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,আমার স্বামী এখনো পঙ্গু হাসপাতালের বিছানায় মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছে। প্রধান আসামিসহ মূল অপরাধীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তার ওপর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে এবং আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল নেপথ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। প্রভাব খাটিয়ে আসামিরা জামিনে বের হলে বাদী ও সাক্ষীদের ওপর পাল্টা হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাইসহ এজাহারভুক্ত ও জড়িত মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামিসহ বাকি পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।
