মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজার। বছর পাঁচেক উঠেছে শতাধিক পাইকারি আড়ত। এসব আড়ত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয় সুস্বাদু ড্রাগন ফল। দিন দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ফলের চাহিদাও বাড়ছে।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা উৎপাদিত ফল গৌরীনাথপুর বাজারে নিয়ে আসেন। আড়ত গুলোতে চলে বেচাকেনা। আড়তের চালার নিচে সাজিয়ে রাখা হয় লাল টুকটুকে ড্রাগন ফল। বাজার জুড়ে প্রতিদিন প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। দিনভর চলে দরদামের হাকডাক।
স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে ড্রাগনের আবাদ করেছি। জমি থেকে ফল তুলে সহজেই এই বাজারে বিক্রি করতে পারি। এতে পরিবহন খরচ ও ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, বাইসাইকেল ও বস্তায় ভরে ফল নিয়ে বাজারে এসে বিক্রি করি।
একটি আড়তের হিসাব রক্ষক জাকির হোসেন জানান, এ বাজার গড়ে ওঠায় অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের আগেও এটি ছিল কেবল প্রান্তিক বাজার। ড্রাগন ফলের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে বাজারটি এখন যেন ড্রাগন ফলের রাজধানী।
এই ফলের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে গড়ে থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। আড়ত গড়ে ওঠায় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। জানা গেছে, জেলাজুড়ে বিদেশি ড্রাগন ফলের সুযোগ হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি আড়তে কাজ করে মাসে ১৫-১৮ হাজার টাকা বেতন পাই। এ ছাড়া আড়ত গুলোতে ফলের পরিমাপ করা ও প্যাকেজিং করার জন্য আলাদা লোক কাজ করে। সবাই প্রতি মাসে গড়ে ১২-১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।
নাটোর থেকে আসা পাইকারি ফল ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, বাজারে আমার মতো অনেকেই ফল কিনতে আসেন। ব্যবসার পরিবেশ ও নিরাপত্তা সন্তোষ জনক। বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন ফল পাওয়া গেলেও গৌরীনাথপুর বাজারের ফলের মান ভালো। দামও নাগালের মধ্যে। প্রতি সপ্তাহে এ বাজারে এসে ফল কিনে ট্রেনে করে নাটোরে ফিরে যাই।
পাইকারি ও খুচরা আড়তদার সাঈদ সরকার জানান, বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরা এখানে সহজেই ব্যবসা করতে পারেন। এই বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। এসব ফল সরবরাহ করা হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে। ফলের আকার ও মান ভেদে দাম কমবেশি হয়ে থাকে।
