সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম*-এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর জেলা জামায়াত প্রথমে AI বলে দাবি করলেও, পরে একই কক্ষের আরও ফুটেজ আসায় এবং তথ্য যাচাইয়ে অরিজিনাল প্রমাণিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাকে কখনো মোবাইল ফোনে কথা বলতে, আবার কখনো ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম দাবি করে এটি AI দিয়ে বানানো।
কিন্তু তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জানায়, ভিডিওটিতে AI বা ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। AI ভিডিওর সীমাবদ্ধতাও নেই। প্রাথমিক বিশ্লেষণে এটি একটি বাস্তব ভিডিও।
পরে জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা *মাওলানা আজিজুর রহমান* মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে জানান,
এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা নেই, তবে বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি হয়েছে। ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এমপি গাজী নজরুল ইসলাম লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেছেন ঘটনাটি *১৩ জুলাই ২০২৬* তারিখের এবং স্থান মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়।
তিনি, প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ অফিসে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬-৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে অফিসে ঢোকায়। তারা হেনস্তা করে নিচে চায়ের দোকানে নিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ,যিনি সম্পর্কে দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। ওই রাত ১০টায় সে এমপির কাছে ৫ লাখ এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
টাকা না পেয়ে ওবায়দুল্লাহ অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এমপি একে তার ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে “গভীর ষড়যন্ত্র ও চরিত্র হননের অপচেষ্টা” বলেছেন এবং জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।
ভিডিওতে থাকা তরুণীর নাম মরিয়ম বেগম। জামায়াতের পক্ষ থেকে আসা বায়োডাটা অনুযায়ী তার বয়স ১৮ বছর ২ মাস। ২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি দিয়েছে। বায়োডাটায় নিজেকে অবিবাহিত উল্লেখ করেছে এবং সেখানে এমপির ‘জোর সুপারিশ’ ছিল। তার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপের ছবিতে দেখা গেছে তার পরিবারও জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্ত।
এমপির সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
