বিশেষ প্রতিনিধি:
পিআইও’র কর্মতৎপরতায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে যশোর সদরের গ্রামীণ জনপদ।
যশোর সদরের ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে কাঁচা সড়ক, হেরিংবন, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ভরাট, টিউবয়েল স্থাপন, মসজিদ-মন্দির কবরস্থান-শশ্মান সংস্কার ও মেরামতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুফলে গ্রামীণ জনপদে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, যার সুফল পাচ্ছেন এখানকার সাধারণ মানুষ। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইয়ারুল হকের অক্লান্ত পরিশ্রম ও পিআইও অফিসের প্রধান সহকারী কবির হোসেন এবং অফিস সহযোগী সুজন এসব কাজ সম্পনে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য চলতি অর্থবছরের ১ম মেয়াদে টিআর ১৫০টি, কাবিখা নগদ ১০৭টি, কাবিখা চাল ২০টি, কাবিখা গম ২১টি ২য় মেয়াদে টিআর ৭৬টি, কাবিখা নগদ ৫৭টি, কাবিখা চাল ১৭টি, কাবিখা গম ১৭টি প্রকল্প সম্পন্ন হবে।
তবে বৈরী আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টির কারণে কিছু প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শুরু হলেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। কিছু কিছু মাটির কাজ আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ চলমান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাকি কাজগুলো শেষ করা হবে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা সড়ক নির্মাণ, মাঠ সংস্কারসহ ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। এই উন্নয়নের ফলে সদরের অবহেলিত গ্রামীণ জনপদে মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়েছে। বিগত সময়ে এসব এলাকায় কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বর্তমান সরকার এসব এলাকায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। ফলে সদরের ১৫টি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে।
এদিকে এলাকার স্থানীয়, জনগন ও উন্নয়ন কর্মীরা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও উন্নয়নের এই ধারা যেন অব্যাহত থাকে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যেন সরকারী সেবার আওতায় আসে, সে বিষয়ে সকলকে এগিয়ে এসে একসাথে কাজ করতে হবে, তাহলে যশোর সদর একটি মডেল ইউনিয়নে পরিনিত হবে বলে মনে করছেন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইয়ারুল হক বলেন, কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের প্রতিটি কাজ যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সে জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রতিনিয়ত তদারকি করছেন। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সঠিকভাবে কাজ বুঝে নেওয়ার পর সিভিসিদের অর্থ ছাড় দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি ইউপি সদস্য (সিভিসি)কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যেন কোনো অনিয়ম না ঘটে। যদি কোনো অনিয়ম হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বেশ কয়েকটি প্রকল্প নিজে পরিদর্শন করেছেন এবং সবগুলোতেই ভালো মানের কাজ হয়েছে বলে জানান।
