, , ,

নারীদের ‘এলপিজি কার্ড’ ও মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা  বিনামূল্যে করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি:
মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসাথে তিনি নারীদের ‘এলপিজি কার্ড’ দেয়ার আশ্বাস দেন।  সোমবার  বিকালে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বিএনপির  সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সমাবেশে তিনি বলেন,  তিনি বলেন, সমস্ত দল মিলে আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি তার প্রতিটি লাইন পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

তারেকরহমান বলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা মেট্রিক পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। তার অসমাপ্ত কাজ পূরণের লক্ষ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করব।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রান্নার কষ্ট লাঘবে নারীদের এলপিজি কার্ড সেবা দেওয়া হবে। এছাড়াও ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবে সরকার। বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে ভালো রাখার রাজনীতি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার পালিয়েছে, এখন দেশ গঠনের পালা। আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে বন্ধ হওয়া অনেক কল-কারখানা চালু করা হবে।’

বেলা আড়াইটায় সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে শার্শায় উলশী খাল পুনঃখনন, হরিনারবিলে পাঁচশ শয্যার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন এবং দড়াটানায় যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন একটি বলছে বলছে বিএনপি ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে গেছে। কিন্তু কারা ফ্যাসিবাদের দোসর তা দেশের মানুষ জানে। ৫ আগষ্টের পর তারা বলেছিল, আমরা সবাইকে মাফ করে দিলাম। এখন তারাই ফ্যাসিবাদীদের সাথে আঁতাত করে নতুন করে ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করছে।
আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের মানুষের স্বার্থ ও উন্নয়ন।
আজ যারা জুলাই সনদ নিয়ে মায়া কাঁন্না করছেন তারা ফ্যাসিষ্ট সরকারের প্রধানসহ তার দোসররা পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে মাফ করে দিয়েছিল, তাদের মুখে ফ্যাসিবাদ বিরোধী কথা মানায় না।
২৮ মিনিটের টানা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ও দেশের কল্যানে তার সরকারের গৃহিত কর্মসূচী তুলে ধরে তা পর্যায়ক্রমে পূরণের কথা পুনঃব্যক্ত করেন।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম,
,স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম চৌধৃরী,পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ,বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, অমলেন্দু দাস অপু, সাবিরা সুলতানা মুন্নি, মিজানুর রহমান খানসহ জেলা বিএনপি,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন,এই যশোরে নতুন রাজনীতি,নতুন ধরনের সংস্কৃতি চালুর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশকে নতুন রাষ্ট্রে পরিণত করবেন।
জনসভাটি সঞ্চালনা করেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল।

 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী যদুনাথপুর জিয়া খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করেন। তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়ি বোঝাই করেন এবং তিনি ও অমিত সেই ঝৃড়ি বোঝাই মাটি শ্রমিকের মাথায় তুলে দেন। এখানে এক সংক্ষিপ্ত সুধী সমাবেশে বকৃতা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ বেডের হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করেন। মেডিকেল কলেজের প্রোগ্রাম শেষ করে গাড়ি বহর নিয়ে যশোরে ঐতিহ্যবাহী যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরী পরিদর্শন করেন।

 

তিনি এ সময় ঘুরে ঘুরে লািব্রেরীর বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন এবং শত বছরের পুরাতন তালপতায় লেখা স্বচোক্ষে অবলকন করেন। এই প্রথম দেশের কোন সরক্র প্রধান শত বছরের ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরীটি পরিদর্শন করলেন।পরে বিকাল ৫ টা ২২ মিনিটে যশোর ঈদগাহ ময়দানে যশোর জেলা বিএনপির জনসভায় যোগ তেন। তিনি যশোর সার্কিট হাউজ থেকে পায়ে হেঁটে জনসভা স্থলে যান এবং জনসভায় ২৮ মিনিট বক্তৃতা করেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ