, , ,

নেইমারের অন্তর্ভুক্তি গোটা ব্রাজিলকে আনন্দে ভাসিয়েছে

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক:
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সোমবার (১৮ মে) দিবাগত রাতে রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে জমকালো এক অনুষ্ঠানে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ দল প্রকাশ করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এবারের দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় চমক পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রের প্রত্যাবর্তন।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো’র তথ্যমতে, ১৩টি দেশের প্রায় ৭০০ সংবাদকর্মীর উপস্থিতিতে আনচেলত্তি যখন নেইমারের নাম উচ্চারণ করেন, তখন পুরো মিলনায়তন উল্লাস আর করতালিতে ফেটে পড়ে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম এবং আনচেলত্তি ব্রাজিলের কোচ হওয়ার পর এবারই প্রথম জাতীয় দলে ডাক পেলেন ৩৪ বছর বয়সী এই মহাতারকা।

দীর্ঘ চোট ও ফিটনেস জটিলতার কারণে নেইমারের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে তুমুল বিতর্ক ছিল। তবে নেইমারকে দলে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা নেইমারকে পুরো বছরের পারফরম্যান্স দিয়ে মূল্যায়ন করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে সান্তোসের হয়ে তার ধারাবাহিক খেলা এবং শারীরিক অবস্থার অভাবনীয় উন্নতি আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল। বিশ্বকাপে অন্যদের মতো তারও একই ভূমিকা থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক বেশি। এটা সত্যি যে কিছু পজিশনে আমরা অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিই।’

নেইমারকে ঘিরে ব্রাজিলের এই উল্লাস শুধুমাত্র সংবাদ সম্মেলন কক্ষেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গোটা ব্রাজিলেই ছড়িয়ে পড়েছিল বিষয়টা। সেটা আঁচ পাওয়া গেল ব্রাজিলের সাবেক ডিফেন্ডার মার্সেলোর ভিডিওতে।

দল ঘোষণার সময় টেলিভিশনে নেইমারের ছবির পাশে লেখা ছিল ‘বাতে নো পেইতো’। বাংলায় যার অর্থ ‘বুকে হাত দাও’। সেই মুহূর্তটি দেখে আনন্দে ফেটে পড়েন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার মার্সেলো। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই লেফট-ব্যাককে দেখা গেছে চিৎকার করতে, মুষ্ঠি উঁচিয়ে উল্লাস করতে এবং চওড়া হাসি দিতে।

সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রাজিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কতটা গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে, মার্সেলোর এই আবেগময় প্রতিক্রিয়া সেটাই মনে করিয়ে দেয়। সঙ্গে নেইমারের অন্তর্ভুক্তি যে গোটা ব্রাজিলকে আনন্দে ভাসিয়েছে, সেটাও জানান দেয়।

বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেলেও নেইমার যে সরাসরি শুরুর একাদশে সুযোগ পাবেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই সফল কোচ। আনচেলত্তি সরাসরি বলেন, ‘নেইমার বিশ্বকাপে আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তবে এখানে আপনার শুরুর একাদশে খেলার, না খেলার, কিংবা কেবল বেঞ্চে বসে কাটানোরও সম্ভাবনা আছে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগপর্যন্ত নিজের শারীরিক অবস্থা আরও উন্নত করার সুযোগ তার সামনে রয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সবার সাথে স্বচ্ছ ও সৎ থাকতে চাই। যদি নেইমার শুরুর একাদশে থাকার মতো যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন, তবেই খেলবেন। আমার মাথায় একটা শুরুর একাদশ আছে, তবে আমি অনুশীলনে সবার প্রস্তুতি দেখতে চাই। নেইমারের ক্ষেত্রেও নিয়মটা একই।’

ব্রাজিল দল যেন একক কোনো খেলোয়াড়-নির্ভর না হয়ে পড়ে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ট্যাকটিশিয়ান। আনচেলত্তি বলেন, ‘শুধু একজন খেলোয়াড়ের ওপর প্রত্যাশার চাপ আটকে রাখা ঠিক নয়। দলগতভাবে পারফর্ম করা আমাদের মূল দায়িত্ব। বিশ্বকাপ জিততে হলে স্কোয়াডের সবাইকে অবদান রাখতে হবে। আমি শুধু বড় তারকা চাই না, আমি এমন ফুটবলার চাই যারা দলকে ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করবে।’

নেইমারকে কেবল সাইডবেঞ্চ গরম করার জন্য নেওয়া হয়নি জানিয়ে কোচ বলেন, ‘নেইমারকে রিজার্ভ ফুটবলার হিসেবে নেওয়া হয়নি, তিনি দলের মান বাড়াবেন। এমনকি তিনি যদি মাঠে এক মিনিটের জন্যও নামেন, ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। আমরা এমন ফুটবলারদের ডেকেছি যারা উপযুক্ত দলকে এগিয়ে নেবে। তারা ঠিক কত মিনিট খেলবে? সেটা আমি এখনো জানি না।’
সূত্র: সমকাল/ যযুগান্তর

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ