, , ,

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ সনাকের ৯ পরামর্শ

আরো খবর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর উদ্যোগে এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর সহায়তায় সনাক কর্তৃক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বুধবার অধিপরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হাসপাতালের সার্বিক সেবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ আব্দুস সালাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিপরামর্শ সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসিজি সমন্বয়ক মোঃ মামুনার রশীদ মামুন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মেডিকেল অফিসার ডা. ইসমত জাহান সুমনা, সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক ডা. সুশান্ত কুমার ঘোষ, সনাক সভাপতি তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান, সহ-সভাপতি মোঃ ইয়াছিন সিদ্দিকী, সদস্য রেবেকা সুলতানা, সদর হাসপাতাল এসিজি’র সদস্যবৃন্দ এবং ইয়েস সদস্যরা।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, “বিভিন্ন প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এর ইতিবাচক ফল এখন ধীরে ধীরে সেবাগ্রহীতারা পাচ্ছেন। হাসপাতালের সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা শূন্য সহনশীলতার (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করছি। হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করতে সনাক-টিআইবি এবং নাগরিক সমাজের সহযোগিতা ও তথ্যভিত্তিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করার কথা বলেন।

আলোচনায় উল্লেখ করা হয় যে, হাসপাতালে সিটিজেন চার্টার ও তথ্য বোর্ড দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন, রোগীদের ভর্তির পর দ্রুত বেড প্রাপ্তি, বহির্বিভাগে বিনামূল্যের ওষুধের সংকট হ্রাস, টিকিট ও ওষুধ কাউন্টারে নারী-পুরুষের আলাদা লাইন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, রোগীদের জন্য খাবারের মানের উন্নয়ন, এবং সেবাদানকারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতি চালু ও নিয়মিত মনিটরিএসব উদ্যোগ সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে হাসপাতালের সার্বিক সেবা আরও উন্নত করতে সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি, তথ্য বোর্ডে পর্যাপ্ত তথ্য নিশ্চিতকরণ, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্লাড ব্যাংকে রক্তের অপ্রতুলতা দূরীকরণ, এক্স-রে কক্ষের সামনে পর্যাপ্ত ফ্যান ও বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, রোগীদের সরকারি হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেবা নিতে উৎসাহিত করার প্রবণতা বন্ধ করা, হাসপাতাল এলাকায় দালালদের দৌরাত্ম্য ও হয়রানি রোধ, এবং রোগীদের সাথে নার্সদের সৌজন্যমূলক আচরণ নিশ্চিত করা।

এছাড়াও লাবসা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিছু বিদ্যমান সমস্যা নিয়েও আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রবেশমুখে গেট নির্মাণ, আগত রোগীদের জন্য নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা, মেডিকেল ডাক্তার নিয়োগ এবং রোগীদের ব্যবহারের জন্য জেন্ডার-বান্ধব টয়লেট নির্মাণের বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়। এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কর্ম-কৌশল নির্ধারণ করা হয়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ