, , ,

মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেহাল অবস্থা,চিকিৎসা সেবা নিয়ে নানা প্রশ্ন

আরো খবর

মনিরামপুর প্রতিনিধি: দেশের অন্যতম বৃহত্তর উপজেলা মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেহাল অবস্থা দেখা দিয়েছে। শয্যা সংকটে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা।

পুরষ/মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে ওয়ার্ডের ফ্লোর,বারান্দা,এমনকি ২য় ও ৩য় তলার সংযোগ গলির পায়ে হাটা ছাউনির নিছে যত্রতত্র বিছানা ফেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ চিকিৎসা সেবা দিতে দেখা গেছে চিকিৎসকদের। স্বল্প জনবল নিয়ে হিমশিম খাওয়া কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়ে সেবা নিতে বেগ পেয়ে ক্ষোভ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছে একাধিক ভুক্তভোগীসহ তাদের স্বজনেরা।
‎

রবিবার (৩ মে) আধাবেলা অব্দি পুরুষ ওয়ার্ডের ৩টি কেবিন সহ ১৯টি শয্যার স্থলে রোগী ভর্তি ৩১ জন। ২য় তলার মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের ৩১টি শয্যা থাকলেও যত্রতত্র শয্যায় সেবা নিতে দেখা যায় ৮৬ জন রোগীকে।
‎উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের রবিবারের তথ্য মোতাবেক, ৩য় ও ২য় তলার ৫০টি শয্যার স্থলে সর্বমোট ১১৭ জন রোগী ভর্তি ছিলো। যা ধারন ক্ষমতার দ্বিগুন।

 

প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের সেবাদানে ডাক্তারদের বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্বাবধায়ক (সার্বিক) ডাঃ মোঃ ফায়েজ আহমেদ ফয়সাল।
‎

সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা অধিকার স্বাস্থ্য সেবায় এহেন ব্যার্থতার দায় না নিয়ে কর্তৃপক্ষের গা ছাড়া মন্তব্য নিতান্তই অবিচারের শামিল বলে সচেতন মহল দাবি করছেন। নাগরিক সেবা প্রাপ্তির বিপরীতে অধিকার বঞ্চিত হওয়ার মতো উদ্বেগ-উৎকন্ঠা নিয়ে দৈনিক অসংখ্য অভিযোগ আসলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নজরে আসছে না এ দূরাবস্থা।
‎

 

সরেজমিনের চিত্রে আরো খানিকটা বে-পর্দা মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবাদানের চরিত্র। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটে ইঞ্জিন ভ্যানের স্টান্ড! যার দীর্ঘ লাইন জরুরী বিভাগের সামনে দিয়ে আউটডোরের শেষে শেষ হয়েছে। একজন নাম মাত্র গেটম্যান নিয়োগ দিলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে বৃদ্ধ (গেটম্যান) ব্যাক্তটিও তার পারিশ্রমিক প্রাপ্তির অসন্তোষ নিয়ে করেন দায়িত্ব অবহেলা।
‎

 

আউটডোরের যে সমস্ত কক্ষে রোগীদের সেবা প্রদান করা হয় সে সমস্ত রুমের সামনে সকাল ৯টা হতে ভুক্তভোগী রেগীর দীর্ঘ লাইন পড়লেও একাধিক কক্ষে ১০-১১টা না বাজলে আসেন না চিকিৎসকেরা। প্যাথলজিস্ট আনিচুর রহমানের ২ যুগের সেবাদানের কয়েকটি বিষয়ে উঠেছে বিতর্ক।

তথ্য আছে,বিভিন্ন রোগের শারীরিক পরিক্ষা-নীরিক্ষার হিসাবের খাতা একই টেবিলে সরকারি ও “দি প্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টার” ২টা থাকে। রোগীদের জন্য কষ্টের হলেও বড় একটি অংশের রোগীদের রিপোর্ট করাতে তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেন।
‎
অভিযোগ আছে, বিভিন্ন সময়ে নার্স,ডাক্তার ও পঃপঃ কর্মকর্তার বদলি/পদায়ন হলেও একমাত্র প্যাথলজিস্ট আনিচুর রহমান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্ব-পদে বছরের পর বছর বহাল আছে অদৃশ্য ক্ষমতাবলে।
২য় তলার পুরুষ ওয়ার্ডের নার্সদের ডিউটি রুমে গল্প আর নেট ব্রাউজিংয়ে ফাঁকে ফাঁকে রোগীদের খোঁজ খবর নেন স্টাফ নার্সেরা।

৯ জন স্টাফ নার্সের পুরুষ ওয়ার্ডে দায়িত্ব থাকলেও ৭ জন করেন ডিউটি,২জন নিচে আউটডোরে সেবায় সহযোগিতা করেন। তিল ঠাঁই না থাকা বারান্দা ও ওয়ার্ডের বেডের নিচে অপরিছন্নতা,তার সাথে বাথরুমের ঝাঁজালো দুর্গন্ধে রোগী-স্বজনদের অবস্থা বে-সা-মা-ল।
‎
রবিবার (৩ মে) মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের গেট বন্ধ করে ডাক্তার রাউন্ডে থাকায় রোগীর স্বজনদের ভীড় কাটিয়ে খুলে ভেতরে ঢুকে দেখা যায় পরিছন্নতা যেনো ভেতরের চেয়ে ওয়ার্ডের বাইরে বেশি। শিশু ওয়ার্ডের কিডস কর্নারে পুরাতন বেডের স্টোর,তার সামনেই রোগাীর বেডের পাশেই কুড়িয়ে রাখা আবর্জনার স্তুপ।

পরিছন্নতা কর্মী সুন্দরী (ছদ্বনাম) বউদি ডাক্তার মেডামের রাউন্ডের সাথে সাথে রোগী দেখছেন। জুতা পায়ে ফ্লোরে বিছানা করা রোগীর বেড পদদলিত করে জুতার ছাপে সাদা বিছানার চাদর ময়লা রংয়ে রুপ নিয়েছে।
‎
এ দিকে মহিলা ওয়ার্ডের সামনে কাউন্টারে স্টাফ নার্সদের কাউন্টারে রোগী এসে যন্ত্রণায় কাতরালেও স্টাফ সংকট থাকা কর্তৃপক্ষের কাউকে ডেকে না আনলে পাওয়া যায়না। অভিযোগ আছে,নার্সদের ফোর্স না করলে বা ক্ষমতাসীন কারো রেফারেন্স না দিলে সেবা পেতে বেগ পেতে হয় রোগীদের।
‎
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোগীর এক স্বজনের আক্ষেপ গত ২দিন রোগী ভর্তি করলেও সরকারি বরাদ্দের তিন বেলার একবেলাও দেওয়া হয়নি খাবার। এ ছাড়াও গর্ভবতী মহিলাদের মাতৃত্ব কালীন (পিএনসি) কার্ড নবায়নে গর্ভবতী নারীদের সাথে বৈষম্য করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ৭ মাসের গর্ভবতী এক নারীর স্বামী।
‎
এ সমস্ত অসংগতির আড়ালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিজারিয়ান অপারেশন,টিকিট কাউন্টার,ফার্মেসী ও জরুরী বিভাগের কয়েকজন স্টাফের অক্লান্ত পরিশ্রমে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবায় কিছুটা আস্থা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও কয়েকজন স্বজনেরা।
‎
সার্বিক তথ্যের আনুষঙ্গিক বিষয়াদি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করে মুঠোফোনে সিভিল সার্জন(স্বাস্থ্য) ডাঃ মাসুদ রানার সাথে কথা কথা হলে শয্যা উন্নীতকরণে বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
‎ইতিপূর্বে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্বাবধায়ক ডাঃ ফায়েজ আহমেদ ফয়সাল ও সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মাসুদ রানার সাথে উল্লেখিত বিষয়ে গতানুগতিক মন্তব্য দিলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা উন্নীতকরণের আলো অধরা রয়ে গেছে।
‎

 

বৃহত্তর উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যা হতে ১’শ শয্যা উন্নীতকরণের উপজেলাবাসীর এ দাবির বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় উপ-পরিচালক(স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ মুজিবুর রহমানের সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি জেলা কর্মকর্তা আমাকে অবগত করেছেন। আমরাও দাপ্তরিক ভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

 

তিনি আরো বলেন,স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা ভিত্তিক মান উন্নয়নের তালিকায় মণিরামপুর না থাকলেও যে কোন ভাবে বৃহত্তর স্বার্থে শয্যা উন্নীতকরনের আপেক্ষিক সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন তালিকায় মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাম সংযুক্ত করা হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ