এনামুল হাসান, কেশবপুর ( যশোর) :যশোরের কেশবপুর উপজেলায় টানা কয়েক দিনের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। এরপর শুরু হয় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত, যা তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল থেকেই প্রচণ্ড রোদ ও তীব্র দাবদাহে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা গরমে দিশেহারা হয়ে ওঠেন। তবে দুপুরের পর হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে তাপমাত্রা একধাক্কায় কিছুটা কমে যায় এবং পরিবেশে শীতলতা ফিরে আসে।
কয়েক দিনের অসহনীয় গরমের পর এই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃষ্টি শুরু হতেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা যায়। অনেককেই ঘর থেকে বের হয়ে বৃষ্টির মনোরম আবহ উপভোগ করতে দেখা গেছে।
স্বস্তির এই বৃষ্টির পাশাপাশি উপজেলার কিছু নিচু এলাকা ও কয়েকটি সড়কে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল থাকা সড়কগুলোতে দ্রুত পানি জমে যাওয়ায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। ফলে সাধারণ মানুষকে সাময়িক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তবে বৃষ্টি কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে জমে থাকা পানি নেমে যেতে শুরু করে।
মো: রহিম আলী (৪৫), ভ্যানচালক বলেন কয়েক দিন ধরে যে গরম পড়ছিল, ভ্যান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ঘেমে-নেয়ে শরীর শেষ হয়ে যাচ্ছিল, আয়-রোজগারও কমে গিয়েছিল। দুপুরের এই বৃষ্টিটা যেন আল্লাহর রহমত। শরীরটা জুড়িয়ে গেছে, এখন শান্তিতে বাড়ি ফিরতে পারব।
সুরাইয়া বেগম গৃহিণী বলেন গরমের চোটে ঘরের ভেতর টেকা যাচ্ছিল না, বাচ্চারা গরমে ছটফট করছিল। দুপুরের পর আকাশ কালো করে যখন বৃষ্টি নামল, তখন সত্যি খুব স্বস্তি পেয়েছি। গরমটা এক টানে কমে গেল। তবে আমাদের গলির ড্রেনটা পরিষ্কার না থাকায় একটু পানি জমে গেছে, এটা ঠিক করা দরকার।
কামরুল হাসান (২৮), স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,
টানা ভ্যাপসা গরমে দোকানে বসে থাকাটাই একটা শাস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কাস্টমাররাও গরমে বের হচ্ছিলেন না। বৃষ্টির পর আবহাওয়া অনেক ঠান্ডা হয়েছে। তবে বাজারের মেইন রোডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় বৃষ্টির পর একটু পানি জমে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে ড্রেনগুলো সংস্কার করা জরুরি।
সাময়িক এই ভোগান্তি এড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা নিরসনে কেশবপুরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিক ও কার্যকর উন্নয়ন জরুরি বলে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
